আমার বাংলা ডেক্স: প্রবল বর্ষার পাশাপাশি ডিভিসির মাইথন পাঞ্চেতের জলে বিভিন্ন জেলা ভেসে গেছে। এইভাবেই বর্ধমানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন যাদের বাড়ি ভেঙে গেছে তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। তাদের বাড়ি তৈরি করে দেবে প্রশাসন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ পূর্ব বর্ধমান জেলা সফরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহরের মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুলের মাঠে তিনি প্রশাসনিক জনসভা করেন তিনি। মঞ্চ থেকে তিনি একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদবোধন করেন। ১৯৩ টি কাজের জন্য ৬৯৪ কোটি টাকার শিলান্যাস করেন তিনি। বর্ধমান আরামবাগ রোডে দামোদর নদের উপর শিল্প সেতুর শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩৪৭.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই শিল্পসেতু গড়ে উঠবে। ওই রাস্তার উপরে আশি মিটার নতুন সেতুর তৈরি হবে। ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালের 120 শয্যার স্টেট জেনারেল হাসপাতালের উন্নীতকরণ করেন তিনি। এর জন্য খরচ বরাদ্দ হয়েছে 23 কোটি 40 লক্ষ টাকা। এছাড়া গুসকরা-আউশগ্রাম-ছোড়া রাস্তা, কাটোয়া-করুই রাস্তা, গলিগ্রাম-কুতরুকি-চন্ডীপুর সহ বেশ কিছু রাস্তার শিলান্যাস করেন তিনি।
2015-16 সালে শুরু হওয়া সবুজ সাথী প্রকল্পের একাদশ পর্যায়ে প্রায় 12.5 লক্ষ ছাত্রছাত্রী সবুজসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছেন তাদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। এদিন মঞ্চ থেকে একাদশ পর্যায়ে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের বাই সাইকেল বিতরণের শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সভা থেকেই একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘ 72 হাজারের বেশি লক্ষীর ভান্ডার দেওয়া হবে। 28840 জনকে জমির পাট্টা দেওয়া হচ্ছে। আগামীদিনে আরও 24 হাজার পাট্টা দেওয়া হবে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে 2500 বেশি মানুষকে সাহায্য করা হবে। জেলায় নতুন করে 49 টি বাসস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে 54 টি স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করা হয়েছে। বর্ষায় যে সব মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে সেই সব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন জেলাশাসকদের। জেলায় 15 টি আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

