আমার বাংলা ডিজিটাল ডেক্স: প্রধানমন্ত্রী চোরেদের সর্দারদের নিয়ে মিটিং করছেন। আর বাংলাকে চোর বলছেন। তিনি কেন বলবেন বাংলার সবাই চোর? বাংলার অবদানের কথা ভুলবেন না, এইভাবেই বর্ধমানের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোথায় কেন এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ বর্ধমান শহরের মিউনিসিপ্যাল বয়েজ হাইস্কুলের মাঠে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে তিনি একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদবোধন করেন। পরে তিনি বাংলাকে কীভাবে কেন্দ্র বঞ্চনা করছে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।
মোদীকে আক্রমণ মমতার
প্রধানমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। তাই তারও উচিত আমার চেয়ারকে সম্মান করা। কিন্তু তিনি বাংলাকে প্রতি পদে পদে অসম্মান করার চেষ্টা করে গেছেন। বাংলাকে অসম্মান করতে 186 টা টিম পাঠিয়েছেন। তাদের সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও আপনারা নাম্বার কাটছেন, বাংলাকে চোর বলছেন।
মমতার হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেন, ভাষা সন্ত্রাস মানবো না। তার ব্যাখ্যা, ‘আমরা পরিযায়ীদের গায়ে হাত দিই না। 22 লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আমাদের এখান থেকে ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করছেন। তারা বাংলায় কথা বলেন বলে কেন তাদের উপরে অত্যাচার করা হবে। আজ শুনলাম যে ভাইকে মুম্বাইতে পিটিয়েছিল। সে নাকি মারা গেছে। আর আমাদের এই রাজ্যেও ভিন রাজ্য থেকে আসা প্রায় দেড় কোটি শ্রমিক কাজকর্ম করছে। কই আমরা তো কারও গায়ে হাত দিই না। তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের বলবো বাংলায় ফিরে আসুন। বাংলায় ফিরে এলে তাদের স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হবে। তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হবে। তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ লাগবে না।’
প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যে আসা নিয়ে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ ভোট এলেই পরিযায়ী পাখির মতো বারবার উড়ে আসেন তিনি। এই আপনি পরিযায়ী পাখির মতো বারবার আসছেন, তা আসুন। আসলে আপনার প্লেন ফ্রি, হেলিকপ্টার ফ্রি, সব ফ্রি। অথচ আমি এক পয়সাও মাইনে নিই না। আমিও এম পি ছিলাম। কোন ভাতা নিইনি। সুযোগ সুবিধা নিই নি। আমি টাকা চাইনা, মেধা চাই।
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ মমতার
আত্মসম্মান চাই। নিজে চোরেদের সর্দারদের নিয়ে মিটিং করবে আর বাংলাকে চোর বলবে। সবচেয়ে বড়ো চোর তো উত্তরপ্রদেশ মহারাষ্ট্রে আছে।নিজে চোরেদের সর্দারদের নিয়ে মিটিং করে বাংলাকে চোর বলতে লজ্জা করে না। বাংলা মা কে অসম্মান করলে আমি ছেড়ে কথা বলবো না।বাংলায় সবাই চোর কেন বলবেন? বারবার আসবে আর বলবে বাংলায় নাকি সব বাংলাদেশীরা থাকেন। আমাকে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যাবে না।ক্ষমতায় আছো বলে বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছো। মনে রাখবে একদিন তুমি থাকবে না। মনে রাখবেন বাংলার ছেলেমেয়েরা মাথা নত করবে না। ‘

