Friday, May 29, 2026
Homeরাজনীতিঅন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নয় বার্তা মেমারির বিধায়ক মানব গুহর

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নয় বার্তা মেমারির বিধায়ক মানব গুহর

আমার বাংলা ডিজিটাল ডেক্স: বিগত সরকারের প্রতিটা সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাবে বিজেপি সরকার- ক্ষমতায় আসার পরে সেই কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কোন শর্তে মিলবে এই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। কমবেশি সকলেই বিভ্রান্ত এই প্রকল্প নিয়ে। কিন্তু কেউ যাতে বিভ্রান্তির মধ্যে না পড়েন সেই জন্য ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। তার স্পষ্ট বার্তা পাড়ার চায়ের দোকানের আলোচনা কিংবা হোয়াটস অ্যাপের ভুলভাল ম্যাসেজে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যারা যোগ্য তারা সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক বার্তায় তিনি লিখেছেন
” ১লা জুন থেকে টাকা পাওয়ার আগে জেনে নিন আসল সত্য, পাড়ার চায়ের দোকানের আলোচনা বা হোয়াটসঅ্যাপের ভুলভাল মেসেজে কান দিয়ে প্যানিক করবেন না,কোনো যোগ্য মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।

নিচের নিয়মগুলো ভালো করে মিলিয়ে নিন:

কারা এই টাকা পাবেন না (বয়সের শর্ত):
যাদের বয়স ২৫ বছরের কম কিংবা ৬০ বছরের বেশি, তারা এই সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারাই এই টাকা পাওয়ার যোগ্য।

স্বামীর বা পরিবারের অন্য কারো চাকরি/উপার্জন কি বাধা হবে?

একেবারেই নয়! আপনার স্বামী সরকারি বা বেসরকারি যত বড় অফিসারই হোন না কেন, কিংবা পরিবারের অন্য কেউ (বাবা, দাদা, ভাই, মা, বোন) যত ইচ্ছাই উপার্জন করুক বা ইনকাম ট্যাক্স দিক—তাতে আপনার টাকা পেতে কোনো অসুবিধা হবে না। শর্ত শুধু একটাই, আপনার নিজের যেন কোনো সরকারি ফিক্সড বেতনের চাকরি বা নিজস্ব ট্যাক্স দেওয়ার মতো আয় না থাকে।

কারা এই অনুদান পাবেন না (চাকরি ও করের শর্ত):

কোনো মহিলা যদি এই মুহূর্তে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, সরকারি স্কুল, পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপালিটির অধীনে কোনো ফিক্সড বেতনে চাকরি করেন, তবে তিনি টাকা পাবেন না।
যারা সরকারি চাকরি থেকে নিজে সরাসরি পেনশন পান, তারাও পাবেন না।

যারা বেসরকারি চাকরি বা নিজস্ব ব্যবসা (দোকান, বুটিক ইত্যাদি) করেন এবং বছরে ১২ লক্ষ টাকার ওপর আয় করে ইনকাম ট্যাক্স (Income Tax) দেন, তারা এই ৩০০০ টাকা পাবেন না। (তবে ব্যবসা/চাকরি থাকা সত্ত্বেও যদি আপনি ট্যাক্স স্ল্যাবের নিচে থাকেন এবং ইনকাম ট্যাক্স না দেন, তবে আপনি অবশ্যই টাকা পাবেন)।

পেনশন ও ফ্যামিলি পেনশনের নিয়ম:

স্বামী জীবিত আছেন এবং পেনশন পান, কিন্তু স্ত্রী গৃহবধূ—সেক্ষেত্রে স্ত্রী অবশ্যই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন।

কিন্তু, স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী যদি তাঁর জায়গায় ‘ফ্যামিলি পেনশন’ সরাসরি নিজের নামে পান, তবে তিনি আর এই যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

নাগরিকত্ব ও স্পেশাল ছাড় (এসআইআর/সিএএ নিয়ম):
২০২৬ সালের এসআইআর (SIR)-এ যাদের নাম বৈধ নাগরিক হিসেবে কাটা গেছে, তারা এই টাকা পাবেন না।

তবে দুটি বিশেষ ছাড় রয়েছে:
১) যারা সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেছেন (সার্টিফিকেট এখনো পাননি), তারা টাকা পাবেন।
২) যাদের নাম ভুলবশত এসআইআর-এ ওঠেনি বা কাটা গেছে এবং তারা ট্রাইব্যুনালে অ্যাপিল করেছেন, তারাও টাকা পাবেন।

নতুন করে কি আবেদন করতে হবে?

হ্যাঁ, যারা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পাচ্ছিলেন, তারা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা ভাণ্ডার’-এর ৩০০০ টাকা পাবেন। কিন্তু নতুন করে আবেদন করতে হবে।

যারা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি বা যাদের সবেমাত্র ২৫ বছর বয়স হলো, তারা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজে বা সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে নতুন রেসিপিয়েন্ট হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দুটি জরুরি কাজ (অবশ্যই করুন):
১) আধার লিঙ্ক: আপনার যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, সেটির সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে কোনো ভুতুড়ে অ্যাকাউন্ট আপনার টাকা না খেতে পারে।

২) ডিবিটি (DBT) অ্যাক্টিভেশন: আপনার যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে যে অ্যাকাউন্টে সরকারি সুবিধা পেতে চান, সেটিতে ব্যাংকে গিয়ে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি অপশনটি চালু করে নিন। এটি মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ।

আজকের দিনে বিভিন্ন স্বার্থে মানুষকে ভুল বোঝানোর লোক প্রচুর বেড়ে গেছে। তাই কনফিউশন দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের উপকার করতে এই তথ্যগুলো ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মেমারির বিধায়ক মানব গুহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

RELATED ARTICLES

সাম্প্রতিক খবর

মন্তব্য