Wednesday, May 27, 2026
Homeজেলাঅভিনব উদ্যোগ বিধায়ক অরুণ হালদারের, হয় মাটি ফেরত দাও না হয় জেলে...

অভিনব উদ্যোগ বিধায়ক অরুণ হালদারের, হয় মাটি ফেরত দাও না হয় জেলে যাও

আমার বাংলা ডিজিটাল ডেক্স, 26 মে : পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে বেআইনি পুকুর খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন বিধায়ক অরুণ হালদার। মঙ্গলবার আবুজহাটি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোনওরকম দেরি না করে নিজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিধায়ক। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অনুমতি ছাড়াই গভীর করে মাটি কেটে পুকুর খননের কাজ চলছে।

পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অরুণ হালদার। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই খননকার্য বন্ধ করার নির্দেশ দেন। শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে নিজে উপস্থিত থেকে খনন করা গর্ত পুনরায় মাটি দিয়ে ভরাট করার কাজও করান। প্রায় ২০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে বলে জানা যায়, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জমির গঠনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারত।
বিধায়কের এই আকস্মিক পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় মাটি মাফিয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

তিনি অভিযুক্তদের সামনে স্পষ্ট ভাষায় দু’টি বিকল্প তুলে ধরেন—অবিলম্বে মাটি ফেরত দিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে, নাহলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়ে জেলে যেতে হবে। যদিও প্রথমবার অপরাধ হওয়ায় আপাতত সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিধায়কের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই ধরনের বেআইনি মাটি কাটার কাজ চললেও কেউ সরাসরি বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। ফলে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।

অরুণ হালদার বলেন, “জামালপুর এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটার খবর পেয়েই আমি এখানে আসি। আগের সরকারের আমলে এইভাবে মাটি লুঠ হয়েছে, মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কিন্তু এখন মানুষ সচেতন হয়েছে বলেই এই খবর আমাদের কাছে এসেছে। আমাদের সরকারের স্পষ্ট বার্তা—জিরো টলারেন্স। কোনওরকম অন্যায়, দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি এই মাটি কেটেছেন, তাকেই তা ভরাট করতে হবে। প্রথমবার হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপর আর কোনও ছাড় নয়। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতদিন যারা এই ধরনের কাজে অভ্যস্ত ছিলেন, তারা ভেবেছিলেন আগের মতোই সব ম্যানেজ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন সেই সুযোগ আর নেই।”

বিধায়কের এই সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রশাসনিক সক্রিয়তা যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি বেআইনি মাটি কারবারের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তাও পৌঁছে গেছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বেআইনি কাজ অনেকটাই রুখে দেবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

RELATED ARTICLES

সাম্প্রতিক খবর

মন্তব্য