Saturday, February 7, 2026
Homeআমার উৎসবপুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে মানুষের পাশে বেঙ্গল প্রেস ক্লাব, নীরব সাক্ষী...

পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে মানুষের পাশে বেঙ্গল প্রেস ক্লাব, নীরব সাক্ষী কার্জনগেট

আমার বাংলা ডিজিটাল ডেক্স: ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। অন্যান্য দিনের মতো অবশ্য সেই আধো আলো ছায়াতেই ঘুম ভাঙতে শুরু করেছে কার্জনগেট চত্বরের।একের পর এক গাড়ি থেকে সবজির ঝুড়ি নামানো হচ্ছে রাস্তায়। খুচরো সবজি ব্যবসায়ীরা ততক্ষণে ভিড় জমিয়েছেন সবজি কেনার অপেক্ষায়। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা যাই হোক না কেন এটাই কার্জনগেট চত্বরের বারো মাসের ছবি। শুধু কি তাই কার্জনগেট রাস্তার ঠিক যে জায়গায় দাঁড়িয়ে তার ঠিক উলটো দিকের রাস্তার উপরে একের পর এক অনুষ্ঠানের নীরব সাক্ষী ঐতিহাসিক কার্জনগেট।সেই সাক্ষী থাকার তালিকায় যুক্ত হলো একটা পালক।শারদীয়া উৎসব উপলক্ষে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।নতুন বস্ত্র হাতে পেয়ে পুজোর যখন বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে সকলে আনন্দ ভাগ করে নিতে ব্যস্ত। সেই আনন্দের নীরব সাক্ষী কার্জনগেট।

অথচ সকালের দিকে যখন সকলে নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত কার্জনগেট চত্বরকে দেখলে কেউ বলবে না যে কয়েকঘন্টা পরে সেখানে কোন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। তারপর হঠাৎ করে ডেকরেটার্সের গাড়ি আসা, গাড়ি থেকে বাঁশ নামিয়ে মঞ্চ বাঁধা, সাদা হলুদ কাপড়ের গায়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের ব্যানার সকলের নজর কাড়ে। এদিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়প্রকাশ দাস সকাল হতে না হতেই কলকাতা থেকে বাসে করে হাজির। তার সঙ্গে হাজির আর এক বিশিষ্ট সাংবাদিক তন্ময় প্রামাণিকও। সাংবাদিক তথা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক বিধান চন্দ্র ও সুজাতা মেহেরা মঞ্চে হাজির হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে শুরু করে দেয়। এদিকে মঞ্চের কাজ চলাকালীনই হাজির সাংবাদিক বিজয় প্রকাশ দাস, সদন সিনহা, ঋষি গোপাল মন্ডল, অসিত রাউত, গোপাল সোনকার, সুখরঞ্জন সাহারা। সকলে মিলে কাজ ভাগ করে নিয়ে মঞ্চ গোছানোর কাজ শুরু করে দেয়। ততক্ষণে সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্স বা মাইক বাজানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের নিয়ম মেনেই হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান শুরু হয়। মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার, বিডিএর চেয়ারম্যান উজ্জ্বল প্রামাণিক, বিডিএর ভাইস চেয়ারম্যান কাকলি তা গুপ্ত, বিশিষ্ট সমাজসেবী অচিন্ত্য মন্ডল, বিশিষ্ট আইনজীবী রমেশ সিং, রণজিত সাহা, তারক সাহা-দের বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মান জানিয়ে স্মারক তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের দুই প্রয়াত সদস্য সত্যব্রত ঘোষ ও সঞ্জিত সেনের পরিবারের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন সত্যব্রত ঘোষ ও সঞ্জিত সেনের সহধর্মিণীরা।বিশিষ্ট অতিথি ও সাংবাদিকদের হাত থেকে পুজোর শাড়ি উপহার পেয়ে খুশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত মহিলারা। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘প্রচন্ড কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও যেভাবে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই।’

বিশিষ্ট সমাজসেবী অচিন্ত্য মন্ডল বলেন, ‘ প্রতি বছর যেভাবে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সদস্যরা মানুষের পাশে থাকে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ‘

বিডিএর ভাইস চেয়ারম্যান কাকলি তা গুপ্ত বলেন, ‘ সব সময় কাজের ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও যেভাবে বেঙ্গল প্রেস ক্লাব এই সমস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা সাধুবাদযোগ্য।’ আগামী দিনে তাদের কর্মকান্ডে পাশে থাকার আশ্বাস দেন কাকলি গুপ্ত।

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়প্রকাশ দাস বলেন, ‘ পুজো মানেই তো আনন্দ। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব সেই আনন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। তাই এই ক্ষুদ্র অনুষ্ঠানের আয়োজন। ‘

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক বিধান চন্দ্র বলেন, ‘ বেঙ্গল প্রেস ক্লাব মানুষের পাশে থাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। পুজোর আগে নতুন বস্ত্র উপহার তুলে দিয়ে আনন্দ ভাগ করতে পেরে সকলেই খুব খুশি। ‘

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের অপর যুগ্ম সম্পাদক সুজাতা মেহেরা বলেন, ‘বেঙ্গল প্রেস ক্লাব সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। পুজোর মুখে যাতে সকলেই নতুন পোশাক পরে পুজোর আনন্দে মেতে উঠতে পারে সেই চিন্তাভাবনা থেকেই এই ক্ষুদ্র আয়োজন। ‘

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি বিজয় প্রকাশ দাস বলেন, ‘ সামনেই মহালয়া। খুব কম সময়ের মধ্যে এই আয়োজন করতে হয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ‘

এদিন গোটা অনুষ্ঠানকে স্মৃতির খাতায় ধরে রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে স্মার্ট ফোনে বন্দি করেন  অষ্টম  শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম চন্দ্র। তার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে দুপুর নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হতেই নিয়ম মেনে মঞ্চ খোলার কাজ শুরু হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই জায়গা পরিস্কার করে দেওয়া হয়। কার্জনগেট অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। তবে কোন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের নিয়ম মেনে দিনের দিনেই মঞ্চ বেঁধে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চ খুলে সাধারণ মানুষের সুবিধা করে দেওয়া এই ঘটনা আগে দেখেছে কি না সন্দেহ আছে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

RELATED ARTICLES

সাম্প্রতিক খবর

মন্তব্য